
ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনে হামলার মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা শুরু হয়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ অবকাঠামো ধ্বংস করা, যাতে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের বিরুদ্ধে টানা চতুর্থ রাতের সামরিক অভিযান। সর্বশেষ হামলা প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলে। এর আগে মঙ্গলবারও হরমুজ প্রণালির আশপাশে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী হামলা চালিয়ে একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
এদিকে হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিন ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় না এলে হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হতে পারে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং সংঘাত এড়াতে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ভবিষ্যৎ অভিযানের লক্ষ্য হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
চলমান হামলা ও পাল্টা হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।